লিটনের কাছে ক্ষমা চাইলেন সেই আম্পায়ার!

0
4

শুরু থেকেই দারুণ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খেলছিলেন বাংলাদেশের ওপেনার লিটন কুমার দাস। ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরিটাও তুলে নেন তিনি মাত্র ৮৭ বলে। ১২১ রান নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইনিংসকে স্বগর্বে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

এমন সময়ই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটির মুখোমুখি হন লিটন কুমার দাস এবং বাংলাদেশ। ৪১তম ওভারে ইয়ুজভেন্দ্র চাহালের শেষ বলটি একটু এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে মিস করেন লিটন। বলটি ধরে সঙ্গে সঙ্গেই স্ট্যাম্প ভেঙে দেন কিপার ধোনি। আউটের আবেদন করলে ফিল্ড আম্পায়ার থার্ড আম্পায়ার কল করেন।

টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন রড টাকার। বারবার রিপ্লে দেখা হলো। নানা কোণ থেকে বিশ্লেষণ করা হলো। সব দেখাতেই, সব বিশ্লেষণেই দেখা যাচ্ছিল, স্ট্যাম্প ভাঙার আগেই লিটনের পা পপিং ক্রিজের লাইন স্পর্শ করে ফেলেছিল। এমনকি পা ছিল গ্রাউন্ডেই। এই প্রথম দেখা গেল পায়ের অবস্থান ম্যাগনেটিক গ্লাস দিয়েও পর্যবেক্ষণ করতে। এমনকি স্ট্যাম্প ক্যামেরা দিয়ে দেখা হলো। সেখানেও দেখা গেল লিটনের পা লাইন স্পর্শ করার পরই স্ট্যাম্প ভাঙা হয়েছে।

ধারাভাষ্যকাররা বারবার বলছিলেন, বেনিফিট অব ডাউট ব্যাটসম্যানের পক্ষেই থাকার কথা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিভি আম্পায়ার রড টাকার টিপে দিলেন লাল বাতি। স্টেডিয়ামে উপস্থিত সব দর্শকরাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল স্কোরবোর্ডের দিকে। এটা কী দেখছেন তারা। এও কি আউট হয়। জোর করে আউট দিতে হবে। সামান্য সম্ভাবনা থাকলেও, সেটা যদি আউট নাও হয়, তবুও দিতে হবে?

টিভি আম্পায়ার আউট দিলেন। ব্যর্থ মনোরথ হয়ে আউট স্বীকার করে নিয়েই মাঠ ছেড়ে আসেন লিটন কুমার দাস। পরিসমাপ্তি ঘটে ১১৭ বলে খেলা লিটন কুমার দাসের ১২১ রানের লড়াকু ইনিংসটির। ১২টি বাউন্ডারি এবং ২টি ছক্কার মার ছিল তার ব্যাটে। ১৮৮ রানের মাথায় আউট হন লিটন।

লিটনকে আউট দেওয়ার কিছুক্ষন পরই ডিটি টাইগারর্স সোশ্যাল মিডিয়া সিকিউরিটি টিম সেই আম্পায়ারের আইডিটা হ্যাক করে ডিজেবল করে দেয়। কিন্তু পরে আবার একটিভ করে দিলেও হ্যাকারদের আয়ত্তে নিয়ে নেয় সেই আম্পায়ারের আইডি।

মজার ঘটনা হচ্ছে সেই রড টুকারের আইডি দিয়ে লিটনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে একটি স্ট্যটাস দেওয়া হয়। স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হচ্ছে, ‘লিটন দাস দাদা মাফ চাই আমার ওই আইডিটা ব্যাক এনে দিতে বলো। আর কোন দিন তোমাদের কাউকে আউট দিবো না ব্রো কুলির কসম ।’

অবশ্য কাজটা হ্যাকারদের হলেও প্রথমে সবাই ভেবেছিল হয়তো আম্পায়ারই ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু পরে সবাই বিষয়টা পরিষ্কার হয় এটা নিছক বিনোদন ছাড়া কিছুই নয়। বেচারা রড টুকার!

Comments

Facebook Comments